F1 হাইব্রিড ছোট করলা বীজ ১০ গ্রামের ইন্টেক প্যাকেট
Original price was: 520.00৳ .250.00৳ Current price is: 250.00৳ .
আমাদের থেকে কেন পণ্য নিবেন ?
- পণ্য হাতে পেয়ে মূল্য পরিশোধের সুবিধা
- সঠিক পণ্য না পেলে রিটার্ন করে দিবেন
- সঠিক সময়ে ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে হোমডেলিভারি
Description
F1 হাইব্রিড ছোট করলার পুষ্টিগুনঃ প্রতি ১০০ গ্রাম করলায় ৮৩.২ গ্রাম জলীয় অংশ, ১.৪ গ্রাম খনিজ পদার্থ, ১.৭ গ্রাম আঁশ, ৬০ কিলোক্যালরি খাদ্য শক্তি, ২.১ গ্রাম আমিষ, ১.০ গ্রাম চর্বি, ১০.৬ গ্রাম শর্করা, ২৩ মিগ্রা ক্যালসিয়াম, ২.০ মিগ্রা লৌহ, ১২৬ মাইক্রো গ্রাম ক্যারোটিন এবং ৯৬ মিগ্রা ভিটামিন-সি রয়েছে।
বপনের আদর্শ সময়ঃ ফেব্রুয়ারি-মার্চ (ফাল্গুন-চৈত্র)
F1 হাইব্রিড ছোট করলা চাষ পদ্ধতি
জলবায়ু ও মাটিঃ
করলা উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু উপযোগী ফসল। এটি বৈরি পরিবেশ সহিষ্ণু উদ্ভিদ। মোটামুটি শুষ্ক আবহাওয়াতেও এর ফলন সম্ভব। করলা জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। আবার অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে পরাগায়ন বিঘ্নিত হতে পারে। শীতের দু’এক মাস বাদ দিলে বাংলাদেশে বছরের যেকোনো সময় করলার চাষ করা যায়। শীতকালে গাছের বৃদ্ধিও হার কমে আসে। করলার ভালো ফলন পেতে হলে সারাদিন রোদ পায় এবং পর্যাপ্ত ব্যবস্থা আছে এমন জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ দোআঁশ বা এঁটেল দোআঁশ মাটি এর চাষাবাদের জন্য উত্তম।
বীজ বপনের সময়ঃ
তীব্র শীত ব্যতীত সারা বছর, তবে উপযুক্ত সময় হলো ফেব্রুয়রিী থেকে মে মাস।
বীজের হারঃ প্রতি একরে ৮০০ গ্রাম – ১০০০ গ্রাম।
জীবন কাল
মোট জীবনকাল প্রায় চার থেকে সারে চার মাস। তবে জাত ও আবহাওয়াভেদে কোন কোন সময় কম বেশী হতে পারে।
জমি নির্বাচন ও তৈরিঃ
সেচ ও পানি নিষ্কাশনের সুবিধাযুক্ত এবং পর্যাপ্ত সূর্যালোক পায় এমন জমি নির্বাচন করতে হবে।
জমিতে প্রথমে ভালোভাবে চাষ ও মই দিয়ে এমনভাবে তৈরি করতে হবে যেন জমিতে কোন ঢিলা বা আগাছা না থাকে। করলা গাছের শিকড়ের যথাযথ বৃদ্ধির জন্য উত্তমরুপে মাদা তৈরি করতে হবে।
জমি তৈরী ও বপন পদ্ধতি
উচ্ছে ও করলার বীজ সরাসরি মাদায় (৪০x৪০x৪০ সেমি) বোনা যেতে পারে। এৰেত্রে প্রতি মাদায় কমপক্ষে ২টি বীজ বপন অথবা পলিব্যাগে উৎপাদিত ১৫-২০ দিন বয়সের চারা রোপণ করতে হবে। উচ্ছের ক্ষেত্রে সারিতে ১.০ মিটার এবং করলার জন্য ১.৫ মিটার দূরত্বের মাদা তৈরী করতে হবে। মাদা বীজ বুনতে বা চারা রোপণ করতে হলে অন্তত: ১০ দিন আগে মাদা নির্ধারিত সার প্রয়োগ করে তৈরী করে নিতে হবে। এছাড়াও মাদা তৈরী করে সরাসরি বীজ মাদাতে রোপন করা যায়।
মাদার আকারঃ ব্যাস ৫০-৫৫ সেমি ,গভীরতা ৫০-৫৫সেমি এবং তলদেশের ব্যাস ৪০-৪৫ সেমি।এক্ষেত্রে সারি থেকে সারি ২ মিটার এবং প্রতি সারিতে ২ মিটার পর পর বীজ বপন করা হয়। ২-৩ সেমি গভীরে প্রতি মাদায় ২ টি করে বীজ বপন করতে হবে এবং চারা গজানোর ৭ দিন পর সুস্থ চারাটি রেখে বাকিটা তুুলে ফেলতে হবে। বীজ বপনের পর প্রয়োজনীয় সেচ্ আবশ্যক।
সারের পরিমাণ ও প্রয়োগঃ মোট পরিমাণ (শতাংশ প্রতি)
১। পচা গোবর ৮০ কেজি (জমি তৈরির সময় শতাংশ প্রতি ২০ কেজি, চারা রোপণের ৭-১০
দিন পূর্বে মাদা প্রতি ৫ কেজি )
২। টিএসপি ৭০০ গ্রাম (জমি তৈরির সময় শতাংশ প্রতি ৩৫০ গ্রাম , চারা রোপণের ৭-১০
দিন পূর্বে মাদা প্রতি ৩০ গ্রাম )
৩। ইউরিয়া ৭০০ গ্রাম (চারা রোপণের ১০-১৫ দিন পর মাদা প্রতি ১৫ গ্রাম, ৩০-৩৫ দিন পর মাদা প্রতি ১৫ গ্রাম,৫০-৫৫ দিন পর মাদা প্রতি ১৫ গ্রাম, ৭০-৭৫ দিন পর মাদা প্রতি ১৫ গ্রাম )
৪। এম ও পি ৬০০ গ্রাম (জমি তৈরির সময় শতাংশ প্রতি ২০০ গ্রাম , চারা রোপণের ৭-১০ দিন পূর্বে মাদা প্রতি ২০ গ্রাম, চারা রোপণের ১০-১৫ দিন পর মাদা প্রতি ১৫ গ্রাম )
৫। জিপসাম জমি তৈরির সময় শতাংশ প্রতি ৪০০ গ্রাম
৬। দস্তা সার জমি তৈরির সময় শতাংশ প্রতি ৫০ গ্রাম
৭। বোরাক্স জমি তৈরির সময় শতাংশ প্রতি ৪০ গ্রাম
৮। ম্যাগনেশিয়াম অক্সাইড ৫০ গ্রাম ( চারা রোপণের ৭-১০ দিন পূর্বে মাদা প্রতি ৫ গ্রাম )
সেচঃ প্রয়োজন হলে সেচ প্রদান করতে হবে। প্রাথমিক অবস্থায় পানির অভাবে বৃদ্ধি ব্যহৃত হয়। ফুল আসার সময় পানির অভাব হলে ফুল ঝরে যায়। সেচের পর মাটির চটা ভেঙে দিতে হবে। জুন-জুলাই মাসে বৃষ্টি শুরু হলে সেচের প্রয়োজন থাকে না। তবে এ সময় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
আগাছাঃ জমি নিয়মিত জমি পর্যবেক্ষণ করুন। সেচ ও সার দেবার পর জো আসা মাত্র নিড়িয়ে আগাছা বাছাই। গাছ খুব ঘন থাকলে পাতলা করে দিতে হবে। নিড়ানি দিয়ে জমির আগাছা পরিষ্কার করে দিতে হবে।
আবহাওয়া ও দুর্যোগঃ অতি বৃষ্টির কারনে জমিতে পানি বেশি জমে গেলে নালা তৈরি করে তাড়াতাড়ি পানি সরানোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
পোকামাকড়ঃ
- করলার কাঁঠালে পোকা- সাইপারমেথরিন জাতীয় বালাইনাশক ( যেমন কট বা ম্যাজিক ১০ মিলি/ ১০ লিটার হারে পানিতে মিশিয়ে) সকালের পরে সাঁজের দিকে স্প্রে করুন। স্প্রের পুর্বে খাবারযোগ্য লতা ও ফল পেড়ে নিন।
- জাব পোকা- সাদা রং এর আঠালো ফাদ ব্যবহার করুন। আক্রমণ বেশি হলে ইমিডাক্লোরোপ্রিড জাতীয় কীটনাশক (যেমন এডমায়ার অথবা টিডো ৭-১০ মিলিলিটার / ২মুখ) ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে প্রতি ৫ শতকে স্প্রে করতে হবে ১০ দিন পরপর ২/৩ বার।
- ফলের মাছি পোকা-সাইপারমেথ্রিন জাতীয় কীটনাশক (যেমন ওস্তাদ ২০ মিলিলিটার অথবা ম্যাজিক অথবা কট ১০ মিলিলিটার) প্রতি ১০লিটার পানিতে মিশিয়ে প্রতি ৫ শতকে স্প্রে করতে হবে ১০-১২ দিন পরপর ২/৩ বার।
রোগবালাইঃ
- ডাউনি মিলডিউ রোগ- ম্যানকোজেব জাতীয় ছত্রাকনাশক ( যেমনঃ রিডোমিল গোল্ড ১০ লিটার পানিতে ২০ গ্রাম মিশিয়ে ১০-১২ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে যেতে পারে।
- পাতা কোঁকড়ানো রোগ- জমিতে বাহক পোকা দমনের জন্য ইমিডাক্লোরোপ্রিড জাতীয় কীটনাশক (যেমন এডমায়ার অথবা টিডো ১০ মি.লি. ২ মুখ) ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে প্রতি ৫ শতকে স্প্রে করতে হবে।
- মোজাইক ভাইরাস রোগ- জমিতে সাদা মাছি দেখা গেলে (বাহক পোকা) ইমিডাক্লোরোপ্রিড জাতীয় কীটনাশক (যেমন এডমায়ার অথবা টিডো ১০ মি.লি. ২ মুখ ) ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে প্রতি ৫ শতকে স্প্রে করতে হবে।
-
করলার পোকামাকড় ও রোগবালাইঃ
করলার মাছি পোকাকরলার সবচেয়ে ক্ষতিকর পোকা হলো মাছি পোকা। পূর্ণাঙ্গ মাছি পোকা করলার খোসার ভিতরে ডিম পাড়ে। ডিম থেকে কীড়া বের হয়ে ফলের নরম অংশ খেয়ে ফল নষ্ট করে।আক্রান্ত ফল দেখামাত্র তা তুলে নষ্ট করতে হবে। সে/ক্স ফেরোমেন ফাঁদ বা বিষ টোপ ব্যবহার করে এ পোকার হাত থেকে সহজেই করলাকে রক্ষা করা যায়। সম্ভব হলে গুটি অবস্থায় করলাগুলোকে কাগজ বা পলিথিন দিয়ে মুড়ে দিতে হবে। এতে এ পোকা আর আক্রমণ করতে পারবে না।করলার কাঁঠালে পোকাপূর্ণবয়স্ক পোকা ও গ্রাব উভয়ই পাতার সবুজ অংশ খেয়ে গাছের ক্ষতি করে। আক্রান্ত পাতাগুলো বিবর্ণ জালের মতো দেখায় এবং পরবর্তীতে পাতা শুকিয়ে ঝরে পড়ে ৷এ পোকা দমনের জন্য গাছ সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে । পোকা দেখামাত্র সংগ্রহ করে মেরে ফেলতে হবে। আক্রমণ বেশি হলে, প্রতি লিটার পানির সাথে ২ গ্রাম কারবারিল বা ২ মিলিলিটার ফেনিট্রোথিয়ন মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।করলার জাব পোকাএ পোকা কচি ডগা ও পাতার রস শুষে খায়। ফলে গাছের পাতা হলুদ হয়ে মারা যায়। জৈব বালাইনাশক যেমন নিমবিসাইডিন ব্যবহার করে এ পোকা দমন করা যায়। আক্রমণ বেশি হলে এসাটাফ ০.৫ বা ইমিডাক্লোরপিড বা একতারা স্প্রে করতে হবে।করলার পাউডারী মিলডিউOdium sp গণের ছত্রাকের আক্রমণে করলার এ রোগ হয়ে থাকে । পাতা ও গাছের গায়ে সাদা পাউডারের আবরণ দেখা যায়। আক্রমণ বেশি হলে পাতা নষ্ট হয়ে গাছ দূর্বল হয়ে পড়ে এবং ফুল ও ফল কম হয়। এ রোগ প্রতিকারে গাছের আক্রান্ত অংশ সংগ্রহ করে নষ্ট করতে হবে। আক্রমণ বেশি হলে প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিলিলিটার হারে টিল্ট ২৫০ ইসি অথবা ২ গ্রাম ৮০% সালফার স্প্রে করতে হবে।করলার পাতার গুচ্ছ রোগমাইকোপ্লাজমার আক্রমণে এ রোগ হয়ে থাকে। যা জ্যাসিড পোকার মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত গাছের পাতাগুলো গুচ্ছ আকারে থাকে । গাছ বাড়ে না এবং ফুল ও ফল কমে যায়। আক্রান্ত গাছ দেখা মাত্র তুলে নষ্ট বা পুড়িয়ে ফেলতে হবে। বীজ সংগ্রহের সময় রোগমুক্ত গাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করতে হবে। ক্ষেতের আশপাশের এলাকা আগাছা মুক্ত রাখতে হবে। বাহক পোকা দমনের জন্য এসটাফ, টিডো, এডমায়ার এসবের যে কোন একটি কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়া টেট্রাসাইক্লিন ছিটিয়ে এ রোগ দমন করা যায়। ছবিতে অনুমোদিত কীটনাশক পদার্থগুলোর ছবি দেয়া আছে। কোনো অবস্থাতেই স্প্রে করার ৭ দিনের মধ্যে ফসল সংগ্রহ করা যাবে না। স্প্রে খুব সাবধানে করতে হবে এবং শিশুদের থেকে নিরাপদে রাখতে।
সতর্কতাঃ বালাইনাশক/কীটনাশক ব্যবহারের আগে বোতল বা প্যাকেটের গায়ের লেবেল ভালো করে পড়ুন এবং নির্দেশাবলি মেনে চলুন। ব্যবহারের সময় নিরাপত্তা পোষাক পরিধান করুন। ব্যাবহারের সময় ধূমপান এবং পানাহার করা যাবে না। বালাইনাশক ছিটানো জমির পানি যাতে মুক্ত জলাশয়ে না মেশে তা লক্ষ্য রাখুন। বালাইনাশক প্রয়োগ করা জমির ফসল কমপক্ষে সাত থেকে ১৫ দিন পর বাজারজাত করুন। বালাইনাশক/কীটনাশক ব্যাবহারের সময় নিরাপত্তা পোষাক পরিধান করুন। ব্যবহারের সময় ধূমপান এবং পানাহার করা যাবে না।
ফলনঃ জাত ভেদে শতক প্রতি ফলন ৮০-১০০ কেজি।














Reviews
There are no reviews yet.